শতাধিকবার বিমানে ভ্রমণ করে অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন দুলাল কৃষ্ণ সাহা
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক দুলাল কৃষ্ণ সাহা বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
- তিনি ২০০০ সালের ২৮ জুন ষষ্ঠ গ্রেডের রাসায়নিক পরীক্ষক হিসেবে যোগদান করে ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একই পদে ছিলেন।
- উড়োজাহাজে ভ্রমণের প্রাধিকার না থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে শতাধিকবার উড়োজাহাজে ভ্রমণ করে ভ্রমণ বিল দাখিল করে সরকারি অর্থ তুলে নেন।
- তাঁর ভ্রমণ বিবরণীতে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি নিজস্ব সিল ব্যবহার করেন এবং ভিন্ন ভিন্ন তিনটি স্বাক্ষরের সনদ তৈরি করেন।
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা বাস বা ট্রেনে চলাচল করতে পারেন, কিন্তু ব্যক্তিগত খরচে উড়োজাহাজে যেতে পারেন না।
- তিনি দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা আদালতে সমন ও সাক্ষ্য দেওয়ার ভুয়া সনদ তৈরি করে বিল জমা দিয়ে অর্থ তুলে নেন।
- প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি সরকারি কোষাগার থেকে মোট ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৭ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।
- অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ১১ অক্টোবর বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয় এবং একই বছর ১৯ নভেম্বর বিভাগীয় মামলা করা হয়।
- তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করে অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসরের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী এবং বিধিমালার ৩(খ) ও ৪(৩)(খ) বিধি অনুযায়ী আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তাঁকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
তথ্য যাচাই
দুলাল কৃষ্ণ সাহার নাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক পদবি, ২০০০ সালের ২৮ জুন যোগদান, ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মরত থাকা, শতাধিকবার উড়োজাহাজে ভ্রমণ, ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৭ টাকা আত্মসাৎ, গত বছর ১১ অক্টোবর বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার অনুরোধ, ১৯ নভেম্বর বিভাগীয় মামলা, আজ রোববার বাধ্যতামূলক অবসর প্রজ্ঞাপন — সবগুলো তথ্য প্রবন্ধে সরাসরি উল্লিখিত।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
সংবাদটি প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক লিখেছেন এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন ও তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনা উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ কোনো পক্ষপাতিত্ব দেখা যায় নি; তথ্যগুলো প্রধানত সরকারি নথি ও প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে পরিবেশিত।