সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় বাংলাদেশি কর্মীদের ঝুঁকি
- সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন; আহতদের মধ্যে চারজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
- রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ফলে তিন হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী আটকা পড়েছেন এবং অন্তত ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
- গত ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশে গেছেন চার লাখ ১৭ হাজার ৮৭১ জন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯.৫ শতাংশ কম।
- সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান ৫৫ শতাংশ কমেছে; চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দুই লাখ এক হাজার ৩৬১ জন গেছেন, যেখানে গত বছর ছিল চার লাখ ৫০ হাজার ৯০৭।
- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সংবাদমন্ডলীকে জানিয়েছেন, রেমিট্যান্সে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে এবং সরকার নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে কাজ করছে।
- সৌদি আরবে তিন মিলিয়নের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন এবং এই অঞ্চলে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ হয়ে থাকে।
- প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেছেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের আগের পরিসংখ্যানের ওপর ভর করেই পাঁচ বছরে এক কোটি চাকরির সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি জোট।
- সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলায় সর্বমোট ১২ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক।
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানে যাচ্ছেন এবং জনশক্তি রপ্তানি বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানানো হয়েছে।
- সরকার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপের মলদোভা, থাইল্যান্ড এবং আফ্রিকার দেশগুলোতেও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
- ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে হামলা চালানোর কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক ও জর্ডানসহ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
- আমিরাতে এ বছরের ১ মার্চ থেকে ১৯ হাজার ৮৭৪ কর্মী গেছেন, যেখানে গত বছর ছিল আট হাজার ৭৩১; কুয়েতে এ বছর ১৯ হাজার ৩৮৬ জন, আগের বছর ২৯ হাজার ৫৬০; কাতারে ৪১ হাজার ৫৭২ জন, আগের বছর ৬৯ হাজার ৩৪১।
- বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেছেন, সৌদি আরবে ‘তাকামুল’ পরীক্ষা দিতে হয় এবং চাকরি, কাজ, বেতন না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, তাই ইউরোপ ও আমেরিকার দিকে নজর দিতে হবে।
- ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন কর্মী বিদেশ গিয়েছিলেন এবং তিনটি বড় শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পরও জনশক্তি রপ্তানি এক লাখ ২২ হাজার বৃদ্ধি পেয়েছিল।
- সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেছেন, ১০ অক্টোবরের হামলা বিমানবন্দরের যাত্রীদের টার্মিনালকে নিশানা করে চালানো হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ।
- হুতিরা সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা ছাড়া অন্যান্য বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ার সব দায় সৌদি সরকারের বলেছে।
তথ্য যাচাই
সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও ২৫ জন আহত—এই তথ্য বাংলাদেশ প্রতিদিন ও শামা ওবায়েদের বক্তব্যে নিশ্চিত। রিয়াদ বিমানবন্দরে ১০ অক্টোবরের হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত—এটি কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনে উল্লেখ। বৈদেশিক কর্মসংস্থানে ৩৯.৫ শতাংশ কমেছে—সমকালের প্রতিবেদনে এটি যাচাই করা যায়। ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চার লাখ ১৭ হাজার ৮৭১ জন বিদেশে গেছেন—সমকালের পরিসংখ্যানে এটি আছে। শামা ওবায়েদের সেমিনারে বক্তব্য—নয়া দিগন্তে প্রকাশিত।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
বাংলাদেশ প্রতিদিন ও সমকালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ক্ষতি ও ঝুঁকির উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। কালের কণ্ঠ হামলাকে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে বর্ণনা করেছে। নয়া দিগন্ত শামা ওবায়েদের সাক্ষাৎকারে সরকারের কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনার চেষ্টা তুলে ধরেছে। প্রথম আলোর সুন্দরবন প্রতিবেদন এই সংকট থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়।