ব্লুটুথ প্রযুক্তির নামের পেছনে ভাইকিং রাজা হ্যারাল্ডের ইতিহাস
- মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারে ব্যবহৃত ব্লুটুথ প্রযুক্তির নামের পেছনে রয়েছে ডেনমার্কের এক হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো ভাইকিং রাজা হ্যারাল্ড ব্লুটুথের ইতিহাস।
- রাজা হ্যারাল্ড গর্মসন দশম শতকে ডেনমার্কের শাসক ছিলেন এবং তাঁর ডাকনাম ছিল ব্লুটুথ; প্রাচীন নর্স ভাষায় নামটি ছিল ব্লাতন (Blátǫnn)।
- ইতিহাসবিদদের ধারণা, রাজা হ্যারাল্ডের একটি দাঁত নীলচে বা পচে গিয়েছিল, তাই তিনি এই ডাকনাম পেয়েছিলেন বলে মনে করা হয়।
- হ্যারাল্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃতিত্ব ছিল খ্রিষ্টধর্মের প্রচলন; ধারণা করা হয়, ৯৬৫ সালের দিকে তিনি ডেনমার্ক ও নরওয়ের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ডেনিশদের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করেন।
- ডেনমার্কের জেলিং শহরে স্থাপিত দুটি প্রাচীন শিলালিপির বড়টিতে তাঁর কৃতিত্বের কথা লেখা আছে এবং সেখানে যিশুখ্রিষ্টের একটি চিত্রও খোদাই করা হয়েছে, যা স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় যিশুর প্রাচীনতম চিত্রগুলোর একটি বলে মনে করা হয়।
- ডেনমার্কের জেলিং শহরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই রাজার নাম; জেলিংকে ডেনমার্কের জন্মস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে তোশিবা, আইবিএম, নকিয়া, ইন্টেল ও এরিকসনসহ প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা নতুন একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন এবং এর জন্য একটি সাংকেতিক নাম প্রয়োজন ছিল।
- ইন্টেলের প্রকৌশলী জিম কার্ডাচ ভাইকিংদের ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী হয়ে পড়লেন এবং রাজা হ্যারাল্ড ব্লুটুথের নাম এই প্রযুক্তির জন্য মনে রাখতে পারলেন, কারণ এই রাজা বিভিন্ন অঞ্চলকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
- প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি তৈরির আগেই 'ব্লুটুথ' নামটি প্রকাশ্যে চলে আসে এবং পরে এই নাম প্রযুক্তি ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায় হিসেবে পরিচিতি পায়।
- ডেনমার্কের কিংস জেলিং জাদুঘরের কিউরেটর অ্যাডাম বাকের মতে, প্রচার ও জনসংযোগ দলের সদস্যরা 'ব্লুটুথ' নামের শুনে দাঁতের অপরিচ্ছন্নতার কথা মনে হতো বলে পছন্দ করেননি, কিন্তু নামটি আলাদা ও সহজে মনে রাখার মতো হওয়ায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
- ব্লুটুথের লোগোটি প্রাচীন নর্স ভাষার দুটি বর্ণের রুনিক প্রতীক দিয়ে তৈরি; রাজা হ্যারাল্ড ব্লুটুথের নামের আদ্যক্ষর 'এইচ' ও 'বি' মিলিয়ে এই লোগোর নকশা করা হয়েছে।
- ২০২৩ সালে ব্লুটুথ প্রযুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জিম কার্ডাচ ও সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন উদ্যোক্তা ডেনমার্কের কিংস জেলিং জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং রাজা হ্যারাল্ডের অনুমতি ছাড়া তাঁর নাম ব্যবহারের জন্য 'ক্ষমা' চান।
- জাদুঘর কর্তৃপক্ষ তাদের ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ করেন এবং আগামী এক হাজার বছরও প্রযুক্তিটির নাম হিসেবে 'ব্লুটুথ' ব্যবহারের অনুমতি দেন।
- জাদুঘরের কিউরেটর অ্যাডাম বাক বলেন, হ্যারাল্ড নিজের কৃতিত্ব জাহির করতে পছন্দ করতেন এবং আজ প্রতিদিন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তাঁর নাম উচ্চারণ করেন, এটা জানতে পারলে তিনি খুব খুশি হতেন।
তথ্য যাচাই
প্রবন্ধে উল্লিখিত সকল তথ্য (রাজা হ্যারাল্ডের ডাকনাম, ৯৬৫ সাল, জেলিং শহর, কিংস জেলিং জাদুঘর, জিম কার্ডাচ, তোশিবা/আইবিএম/নকিয়া/ইন্টেল/এরিকসন, ২০২৩ সালের ২৫ বছর পূর্তি পরিদর্শন, লোগোতে 'এইচ' ও 'বি' রুনিক প্রতীক) প্রবন্ধের ভেতরেই যাচাইকৃত।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
প্রবন্ধটি নিরপেক্ষ ভাষায় লেখা; কোনো পক্ষপাতিত্ব বা বায়াস প্রকাশ পায় না। জাদুঘরের কিউরেটরের সাক্ষাৎকার ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যের সমন্বয় দিয়ে প্রবন্ধটি একটি সুষম চিত্র তুলে ধরেছে।