ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় এআই-চালিত এডিস শনাক্ত যন্ত্র
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা মাস্ট-ক্লাউডনেট নামে একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন, যা শব্দের সাহায্যে এডিস মশা আকর্ষণ, ক্যামেরায় ছবি তোলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে শনাক্ত ও গণনা করে।
- যন্ত্রটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছবি ও তথ্য দূরবর্তী সার্ভারে পাঠায় এবং সেখানে ইওলোভি১১ নামের এআই মডেল এডিস ও অন্য প্রজাতির মশা শনাক্ত করে ফলাফল ওয়েব ড্যাশবোর্ডে দেখায়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিন দিনের প্রাথমিক মাঠ পরীক্ষায় শব্দ ব্যবহার করা যন্ত্রে ৪৯টি এডিস ও ১০টি অন্য প্রজাতির মশা ধরা পড়ে, যেখানে ধরা পড়া মশার ৮৩.১ শতাংশ ছিল এডিস।
- শব্দহীন নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে ধরা পড়ে শুধু একটি এডিস ও তিনটি অন্য প্রজাতির মশা, অন্যদিকে এআই ৪৯টি এডিসের মধ্যে ৩৫টিকে সঠিকভাবে শনাক্ত করেছে (৭১.৪ শতাংশ শনাক্ত হার)।
- গবেষণাটি ২০২৬ সালে আইইইই ট্রানজ্যাকশনস অন ইনস্ট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড মেজারমেন্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
- স্ত্রী এডিস মশার ডানার কম্পনের মতো শব্দ শুনে পুরুষ এডিস মশা আকৃষ্ট হয়; গবেষকরা ৩৫০ থেকে ৫০০ হার্টজের পরিবর্তনশীল শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করেছেন এবং পুরুষ মশার উপস্থিতি স্থানীয়ভাবে এডিসের বিস্তারের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে বলে মনে করেন।
- যন্ত্রের যন্ত্রাংশের খরচ ৯৯ মার্কিন ডলার এবং দূরবর্তী সার্ভার ব্যবহারে মাসে আরও প্রায় ১৩ ডলার ৫০ সেন্ট লাগে; একাধিক যন্ত্র একই সার্ভারে যুক্ত হলে প্রতিটি যন্ত্রের খরচ কমতে পারে।
- গবেষকরা ২০২৭ সালের জুন–জুলাই মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটির আবাসিক এলাকায় ১০ থেকে ১৫টি যন্ত্র বসিয়ে পরবর্তী মাঠ পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করেছেন।
- চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩০৩ জন মারা গেছেন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯ হাজার ২৭৫ জন।
- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস যন্ত্রটির সাশ্রয়ী খরচ, দেশীয় প্রযুক্তি, এআই ব্যবহার এবং শুধু এডিস মশা ধরার ক্ষমতার প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, কাজটি নতুন এবং আরও সহযোগিতা বা পরামর্শের প্রয়োজন হলে করপোরেশন রাজি আছে।
- গবেষকরা মাঠপর্যায়ের আরও ছবি দিয়ে এআইকে প্রশিক্ষণ এবং শনাক্তকরণে অতিরিক্ত যাচাইয়ের ব্যবস্থা করার কথা বলেছেন।
তথ্য যাচাই
প্রথম আলো প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে যন্ত্রের নাম 'মাস্ট-ক্লাউডনেট', এআই মডেল 'ইওলোভি১১', মাঠ পরীক্ষায় ৪৯টি এডিস ধরা, ৩৫টি সঠিক শনাক্ত, খরচ ৯৯ ডলার, পরবর্তী পরীক্ষা ২০২৭ সালের জুন–জুলাই, এবং ডেঙ্গুতে ৩০৩ জন নিহত ও ৯৯ হাজার ২৭৫ জন আক্রান্ত — সব তথ্য প্রতিবেদনেই উল্লিখিত।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
প্রথম আলো প্রধানত গবেষকদের ও কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক মন্তব্য তুলে ধরেছে; সম্ভাব্য সীমাবদ্ধতা বা সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি কম প্রদর্শিত হয়েছে।