রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে সাংস্কৃতিক আয়োজন
- সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করেছে।
- উদীচী একাংশের সহসভাপতি শিবানী ভট্টাচার্যর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় সম্পাদক আজমীর তারেক চৌধুরীর সঞ্চালনায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
- ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম বলেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল কবি নন; তিনি বাঙালির ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, শিল্পবোধ ও অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
- অনুষ্ঠানে উদীচীর সংগীত ও নাটক বিভাগের শিল্পীরা পরিবেশন করেন; কবিতা আবৃত্তি করেন শিখা সেনগুপ্ত, ইসরাত কাকলী, সৈয়দা রত্না ও মনীষা মজুমদার, নৃত্য পরিবেশন করেন সুজানা ও সুপা সাদিয়া।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশ গতকাল এক বিবৃতিতে কালি লেপনকে শুধু একজন কবির প্রতি অবমাননা নয়, বরং বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি, মুক্তবুদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর আঘাত বলে তীব্র নিন্দা করেছেন।
- বিবৃতিতে ৬৩ জন শিক্ষকের নামের মধ্যে শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, মো. রহমত উল্লাহ, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, সীতেশ চন্দ্র বাছার, মো. মশিউর রহমান, সাবিতা রিজওয়ানা রহমান, ফিরোজ আহমেদ, মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, জেড এম পারভেজ সাজ্জাদ, মো. আব্দুর রহিম, এ কে এম খাদেমুল হক, এ এম আমজাদ ও মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনসহ অন্যান্যের স্বাক্ষর আছে।
- শিক্ষকেরা সৃষ্টিশীল চর্চা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের মাধ্যমে এ ধরনের সংকীর্ণতার জবাব দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
- বিবৃতিতে ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশদ্বার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনাও উল্লেখ করে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজন বলা হয়েছে।
তথ্য যাচাই
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়া হয়েছে — প্রথম আলোর সংবাদে যাচাইকৃত; উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজন করেছে — প্রথম আলোতে যাচাইকৃত; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৩ জন শিক্ষক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন — দ্বিতীয় আলোতে যাচাইকৃত; বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানো হয়েছে — দ্বিতীয় আলোতে যাচাইকৃত।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
উভয় প্রবন্ধই কালি লেপন事件কে নিন্দার দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছে; প্রথম আলো উদীচীর প্রতিবাদের সাংস্কৃতিক দিকে বেশি ফোকাস করেছে, দ্বিতীয় আলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবিতে জোর দিয়েছে। কোনো পক্ষপাতিত্বমূলক ভাষা ব্যবহার না করে উভয়ই প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদের ভাষা ব্যবহার করেছে।