দিল্লিতে বিক্ষোভে পুলিশি হামলা, হাজার হাজার আটক
- অবরুদ্ধ নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বামপন্থিদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
- বিক্ষোভ ঠেকাতে আট হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।
- সিজেপি’র শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস বিমান থেকেই আটক করে দিল্লি পুলিশ; পরে সিজেপি’র এক্স একাউন্টে অভিজিৎ দীপকের ভিডিও পোস্ট করা হয়।
- এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন বলে আজিঙ্কা শিন্ডে প্রকাশ্যে স্থলে নেমেছেন।
- শনিবার সকালে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে তার বাড়ি থেকেই আটক করা হয়; দুপুরে বামপন্থি ছাত্র-নেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়।
- সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন আইনজীবীকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে; কয়েক জায়গায় সাংবাদিকদের আটকের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
- আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়েছে এবং একাধিক জায়গায় পুলিশি তাণ্ডব চলছে।
- কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও জাতিসংঘের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক শশী থারুর লকডাউন ও হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর মোতায়েনকে ‘লজ্জাজনক’ বলেছেন এবং মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
- বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, সব নেতা ও তরুণকে গ্রেপ্তার করলেও তারা পিছু হটবেন না।
- সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সকল বিক্ষোভকারীকে ছেড়ে দেয়া না হলে আবার অনশন শুরু করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
- নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক লিদিয়া পলগ্রিন দিল্লির রাস্তাজুড়ে পুলিশি তাণ্ডবের কথা জানিয়েছেন।
- বার্তা সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি এবং প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশকে আটক করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
- দিল্লি জুড়ে ৩৫ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ-প্রস্থানে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং স্থানীয় সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৫০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
- দেশটির সাবেক ১২৪ জন আমলা ও কূটনীতিক একটি খোলা চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করে।
- সিজেপি একটি বিবৃতিতে নেতাদের আটকের বিষয়ে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বিক্ষোভস্থলে পৌঁছাতে বাধা দিতেই পরিকল্পিতভাবে তাদের আটক করা হয়েছে এবং অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।
- সিজেপি লকডাউন সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার দিয়েছে।
তথ্য যাচাই
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি সিজেপি ও বামপন্থীদের বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নিবন্ধে উল্লিখিত; গ্রেপ্তারের সংখ্যা (আট হাজারের বেশি), সাবেক মুখ্যমন্ত্রীদের নাম, ধ্রুব রাঠি ও নেহা বোরাকের আটক, ৩৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর মোতায়েন, ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ এবং ২৫০টি ট্রেন বাতিল — সবগুলোই নিবন্ধে সরাসরি উল্লিখিত তথ্য। ১২৪ জন সাবেক আমলা ও কূটনীতিকের খোলা চিঠি এবং সোনম ওয়াংচুকের ২৪ ঘণ্টার অনশন হুমকিও নিবন্ধে যাচাইযোগ্য।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
নিবন্ধটি মূলত সিজেপি ও বামপন্থী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনমূলক কোণ থেকে লেখা; গ্রেপ্তার, লকডাউন ও পুলিশি হামলাকে নেগativoভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিরোধী দলীয় নেতাদের (রাহুল গান্ধী) সমর্থন ও সাবেক আমলাদের খোলা চিঠিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কোনো প্রতিক্রিয়া সংবাদে অন্তর্ভুক্ত নয়।