পদ্মা ও ঢাকী নদীর ভাঙনে হাজার হাজার পরিবারের বাসস্থান বিলীন
- শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের আলম খানকান্দি গ্রামে গত দুই মাসে পদ্মা নদীর ভাঙনে ৩০৩টি পরিবারের বসতবাড়ি ও ৬০০ একর ফসলি জমি বিলীন হয়েছে এবং আরও ১৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিতে পড়েছে।
- গ্রামটিতে ২০ বছর আগে বসতি গড়ে নাসির কাজী-সুফিয়া দম্পতি পাঁচ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করতেন; গত সপ্তাহে ভাঙনে জমি ও বাড়ি হারিয়ে তাঁরা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন।
- আলম খানকান্দি গ্রামে গত ১২ বছরে পদ্মার ভাঙনে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন নার্গিস আক্তার; তাঁর ১০ বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি গেল।
- আলতাফ হোসেন খান প্রথম আলোকে জানান, পদ্মা সেতুর পূর্ব দিকের পাইনপাড়া চরে তিন-চার বছর ধরে ভাঙন দেখা দিচ্ছে এবং ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে অনেকবার অনুরোধ করা হয়েছে কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
- পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গত বছর ভাঙনে ১ হাজার ৫০০ পরিবারের বসতবাড়ি ও ৫ হাজার একর ফসলি জমি বিলীন হয়েছিল; তখন ৫২ নম্বর পাইনপাড়া ও রেজিয়া আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও নদীগর্ভে চলে গিয়েছিল।
- পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন হোসেন জানান, নদীতীরবর্তী অঞ্চলে ভাঙন হলে তাৎক্ষণিকভাবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়, কিন্তু চর এলাকায় তা রক্ষার জন্য জরুরি কোনো বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না।
- খুলনার দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে বটবুনিয়া এলাকায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধের একটি অংশ রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি ঝুঁকিতে পড়েছে।
- দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের বড় অংশ ধসে পড়েছে; জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা ও তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত।
- স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে নদীভাঙনের সাথে লড়াই করছেন; ভাঙতে ভাঙতে তাঁদের ও আশপাশের বহু মানুষের বাড়িঘর এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।
- গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধান ও পুকুরের মাছ ভেসে যায়; অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারেও বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
- দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, পাউবোর সাথে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
- গত সপ্তাহে ভাঙনের শিকার ২৭৩টি পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল ও শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ।
- পাইনপাড়া মৌজায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল এবং সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে চরের ছয়টি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো; ভাঙনে গত এক বছরে ২২ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ও ৪ কিলোমিটার পাকা সড়ক বিলীন হয়েছে।
তথ্য যাচাই
আলম খানকান্দি গ্রামে ৩০৩টি পরিবারের বসতবাড়ি ও ৬০০ একর জমি বিলীন — প্রথম আলো; দাকোপে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের অংশ বিলীন — দৈনিক নয়া দিগন্ত; ২০২১ সালে সাড়ে ৪ কিমি পাকা সড়ক নির্মাণ — প্রথম আলো; সব তথ্য প্রদত্ত নিবন্ধেই পাওয়া যায়।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
প্রথম আলো স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের (পাউবো, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান) অভিযোগ ও সাক্ষাৎকারে বেশি জোর দিয়েছে; দৈনিক নয়া দিগন্ত সাধারণ বাসিন্দার কথা ও স্থানীয় কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া সমানভাবে তুলে ধরেছে।