রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ১৮ নিহত, ঢাকা-রিয়াদ ১০ ফ্লাইট বাতিল
- সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সোমবার একজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন; টার্মিনাল-৪-এ অগ্নিকাণ্ডও হয়েছে।
- গত এক সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলায় মোট ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি রয়েছেন—মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি।
- হামলায় ৩০৯ জন আহত হয়েছেন; বাংলাদেশি আহতদের মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় যাওয়া ব্যক্তি, তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
- বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ১০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যেগুলোতে মোট তিন হাজার ৪৩১ জন যাত্রীর যাওয়ার কথা ছিল; বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি, সৌদিয়ার তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারের তিনটি ফ্লাইট রয়েছে।
- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইএ৩৩৯ ও ইএ৩৪০ ফ্লাইট দুটি গত শনিবার রাতে স্থগিত করা হয়েছে; বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সময় ১২ই অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখার সময়সীমা বাড়িয়েছে।
- হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম আরও ২৪ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে; নিরাপত্তা যাচাই ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের পর পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
- রিয়াদে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকে পড়েছেন; দূতাবাস ৩ নম্বর টার্মিনালে থাকা প্রায় ১০০ যাত্রীকে মেরিয়ট ও রেডিসন হোটেলে এবং প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার ব্যবস্থা করেছে।
- সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হামলাকে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে এবং ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ১২৪ দফা বিমান হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে; সৌদি আরবের পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও মার্কিন নাগরিকদের চরম সতর্কতা জারি করেছে।
- বাংলাদেশ সরকার নিহতদের মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথেประสযোগে আহতদের চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করছে।
তথ্য যাচাই
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও ৩০৯ জন আহত—সব প্রাথমিক সূত্রেই এই তথ্য মিলছে। ঢাকা-রিয়াদ ১০টি ফ্লাইট বাতিল ও ৩ হাজার ৪৩১ জন যাত্রী প্রভাবিত—বেবিচকের আপডেটেড তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিত। নিহত বাংলাদেশিদের নাম (মো. শাহেদ আহম্মদ ও মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি) ও তাঁদের বাড়ির ঠিকানা প্রথম আলো ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে পাওয়া গেছে।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
সংবাদে হুতিদের হামলার প্রাণঘাতী প্রকৃতি ও বেসামরিক মানুষের ক্ষতি তুলে ধরা হয়েছে, যা বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নিন্দা তুলে ধরে একত্রিক নিন্দার গল্প তৈরি করা হয়েছে। তবে সৌদি সামরিক জোটের প্রতিক্রিয়া ও ইয়েমেনে পাল্টা হামলার তথ্যও সম্পূর্ণতার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখে।