অভিনেত্রী নাসিমা খানের চিরবিদায়
- বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী নাসিমা খান শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন; বয়স ৮২ বছর।
- অভিনেত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নুরজাহান বেগম এবং চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
- নাসিমা খান গত কয়েকদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং সাত দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হন, যেখানেই শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
- এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন এবং ছেলের সন্ধানে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
- তাঁর বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।
- ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্ম নাসিমা খানের; পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রাম এবং তিনি ঢাকার আশুলিয়া পাথালিয়া ইউনিয়নের নিরিবিলি স্বপ্নবিলাস এলাকায় বসবাস করতেন।
- ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত উর্দু চলচ্চিত্র ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হন; ছবিটি ১৯৫৯ সালের মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপদক অর্জন করে।
- দীর্ঘ অভিনয়জীবনে ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘আপন দুলাল’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’, ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
- তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরেও অভিনয় করেছিলেন; ‘নয়ি লায়লা নয়া মজনু’ (১৯৬৯), ‘গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ’ (১৯৬৯), ‘আঁসু বন গয়ে মোতি’ (১৯৭০) ও ‘রোড টু সোয়াত’ (১৯৭১) ছবিতে কাজ করেছেন, যার মধ্যে ‘গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ’ প্রযোজনায়ও যুক্ত ছিলেন তিনি।
- স্বাধীনতার পর চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে টেলিভিশনে উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে আবার পর্দায় ফিরেন এবং পরবর্তীতে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নাটকেও অভিনয় করেছেন।
- জীবনের শেষ ভাগে অভিনয় অনিয়মিত হয়ে পড়েন; পরবর্তী সময়ের চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মাতৃত্ব’, ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ ও ‘মাটির পিঞ্জিরা’ (২০১৩)।
- ১৯৯০ সালে সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’-তে প্রকাশিত আত্মকথনে অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন, যা ২০২৫ সালে বাংলা মুভি ডেটাবেজে পুনঃপ্রকাশিত হয়।
তথ্য যাচাই
নাসিমা খানের ১১ অক্টোবর মৃত্যু, বয়স ৮২ বছর, উত্তরার বেসরকারি হাসপাতাল, নুরজাহান বেগম ও সনি রহমান কর্তৃক নিশ্চিতকরণ, ছেলে নাবিল নিখোঁজ, বড় ছেলে শাবাব যুক্তরাষ্ট্রে, ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট লালবাগে জন্ম, ১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ অভিষেক এবং মস্কো উৎসবে স্বর্ণপদক — সব তথ্য প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে যাচাইকৃত।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
সংবাদটি প্রথম আলোর বিনোদন প্রতিবেদকের প্রতিবেদন হিসেবে উপস্থাপিত; মৃত্যু ও শোকের প্রেক্ষাপটে নিন্দামূলক বা প্রশংসামূলক পক্ষপাতিত্ব সুস্পষ্ট নয়, বরং তথ্যভিত্তিক উপস্থাপন দেখা যায়।