বাংলাদেশের লোকধারায় মঙ্গলকাব্যের পদ্মাপুরাণ
- পদ্মাপুরাণ বাংলাদেশের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম প্রধান আখ্যান, যেখানে লৌকিক দেব-দেবীর মাহাত্ম্য কীর্তন করে রচিত আখ্যানমূলক পদ্য প্রচলিত।
- বিজয় গুপ্ত রচিত পদ্মাপুরাণ বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পঠিত, কারণ তাঁর ভাষা অন্যগুলোর চেয়ে অনেকটাই সরল।
- রয়ানি গান বরিশাল, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর অঞ্চলে প্রচলিত এক বিশেষ গায়কি ঢং, যেখানে ইন্দ্রজিৎ কীর্তনিয়া সহ অন্যান্য শিল্পী মনসাভক্তি ও প্রণতি গায়।
- ঝাপান গান সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও যশোরে প্রচলিত এক অনন্য পরিবেশনা রীতি, যেখানে পাহানরা নিজস্ব ভাষায় পদ্মাপুরাণ কাব্য পাঠ করেন এবং মনোরঞ্জন মুন্ডা ও আরুবালা মুন্ডা সহযোগী হন।
- পদ্মাদেবীর গান সাতক্ষীরার কালীবাড়ি মোড়ে প্রতিবছর ভাদ্রসংক্রান্তিতে মনসাপূজার মাধ্যমে পরিবৃত হয়, যেখানে নারীদের দল বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি গায়।
- ভাসান গান টাঙ্গাইল-জামালপুর অঞ্চলে পরিবৃত হয়, যেখানে কুটিবয়রার খোকা মণ্ডলের দল নৌকায় নেমে বেহুলা-লখিন্দরের কাহিনি নাট্য পরিবেশনা শিল্পকলায় প্রকাশ করেন।
- বিষহরির গান সোনারুপা চা–বাগানে প্রতিবছর বসে বিষহরিপূজার মধ্যে পদ্মাপুরাণ পাঠ হয়, যেখানে জাকির হোসেন বগুড়া একটি বিষহরির পুথি খুঁজে পেয়েছেন।
- পাল্টা মনসা কর্ণফুলীপাড়া ও হালিশহরে প্রচলিত, যেখানে মেঘনাথ সরকার ও শ্যামল শীল সহ পালাকাররা পুঁথি পাঠ ও পালা গায়।
- দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পদ্মাপুরাণের পরিবেশনা রীতি, শাব্দিক ও গায়কিতে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, যা সামাজিক–অর্থনৈতিক অবস্থা ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের প্রতিফলন।
তথ্য যাচাই
পদ্মাপুরাণ বাংলাদেশের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম আখ্যান — প্রবন্ধে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। বিজয় গুপ্ত রচিত পদ্মাপুরাণ বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পঠিত — প্রবন্ধে এটি সরাসরি বলা হয়েছে। ইন্দ্রজিৎ কীর্তনিয়া ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পশ্চিম চেঁচরি গ্রামে কীর্তনিয়া হিসেবে পরিবেশনা করেন — প্রবন্ধে এই তথ্য আছে। মনোরঞ্জন মুন্ডা ও আরুবালা মুন্ডা ঝাপান গানের প্রধান গায়ক — প্রবন্ধে উল্লেখ আছে। জাকির হোসেন বগুড়া বিষহরির পুথি খুঁজে পেয়েছেন — প্রবন্ধে এটি লেখা আছে। মেঘনাথ সরকার ও শ্যামল শীল পাল্টা মনসায় অংশ নেন — প্রবন্ধে এই তথ্য পাওয়া যায়।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
প্রবন্ধটি প্রায় নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক। লেখক বিভিন্ন আঞ্চলিক পরিবেশনা ও গায়কদের সমানভাবে বর্ণনা করেছেন এবং কোনো নির্দিষ্ট ধারাকে অন্যটির চেয়ে উচ্চতর বলেন না। তবে লোকসংস্কৃতি প্রেমিদের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা বলে প্রবন্ধে লোকাচারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পরিলক্ষিত হয়।