জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রয়োজন
- গভীর রাতে তীব্র বুক ব্যথা, প্রসবের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে দ্রুত, দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
- বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি সেবার সমন্বয়ে একটি কার্যকর জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন; সরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতাল, স্বতন্ত্র অ্যাম্বুলেন্স প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে নির্ধারিত মানদণ্ডের আওতায় যুক্ত করতে হবে।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার 'গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি ২০২৩'-এর বাংলাদেশ প্রোফাইল অনুযায়ী, ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আনুমানিক ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল (দৈনিক গড় প্রায় ৮৭ জন)।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রকাশনায় দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত মূল্যায়নে প্রায় ৭৫ শতাংশ অ্যাম্বুলেন্সকে অপর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামযুক্ত অস্থায়ীভাবে রূপান্তরিত যান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ৪১ শতাংশ গাড়ি কোনো কল সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।
- জাতীয় নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্য হবে জরুরি কল থেকে হাসপাতালে নিরাপদ হস্তান্তর পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক সেবা নিশ্চিত করা।
- সাধারণ মাইক্রোবাসে স্ট্রেচার, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সাইরেন বসিয়ে জরুরি চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় না।
- সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি মানদণ্ড পূরণকারী বেসরকারি হাসপাতালও এই ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারে; রোগী পাঠানোর বিনিময়ে কমিশন নিষিদ্ধ করতে হবে।
- সব অ্যাম্বুলেন্স চালক ও সহকারীর জন্য প্রাথমিক জরুরি সহায়তা, বেসিক লাইফ সাপোর্ট এবং সিপিআর প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
- মানসম্মত অ্যাম্বুলেন্স সহজলভ্য করতে অনুমোদিত বিল্ট-ইন অ্যাম্বুলেন্সের আমদানি শুল্কমুক্ত ঘোষণা করা উচিত এবং শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা প্রতিটি গাড়িকে জাতীয় নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
- সারা দেশের অনুমোদিত অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অভিন্ন জাতীয় রঙের বিন্যাস ও চিহ্ন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা উচিত।
- ৯৯৯-এর সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের প্রশিক্ষিত মেডিকেল ডিসপ্যাচ যুক্ত করার প্রস্তাব বিবেচনা করা যেতে পারে এবং আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থাকবে।
- ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পে ৩৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা হয়েছিল; পরীক্ষামূলক অ্যাম্বুলেন্স ও বাইক ভিত্তিক জরুরি সেবার কথা বলা হয়।
- বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট পরিবহন, রাজস্ব, স্থানীয় প্রশাসন, জরুরি সেবা ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে।
- লেখক: অধ্যাপক ডা. এ কে এম মহিউদ্দিন ভূঁইয়া মাসুম, এমবিবিএস (ডিএমসি), এমডি (কার্ডিওলজি), ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, বিভাগীয় প্রধান, কার্ডিওলজি, পপুলার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা।
তথ্য যাচাই
২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় আনুমানিক ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু ও দৈনিক গড় ৮৭ জন — বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোফাইল অনুযায়ী; ৭১ শতাংশ মৃত্যু অসংক্রামক রোগের কারণে — বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রকাশনা অনুযায়ী; ৭৫ শতাংশ অ্যাম্বুলেন্স অপর্যাপ্ত সরঞ্জামযুক্ত — বিশ্বব্যাংক মূল্যায়ন অনুযায়ী; ৩৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন — ২০২৩ সালের সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প ঘোষণা অনুযায়ী।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
প্রবন্ধটি নীতিগত সংস্কারের পক্ষে যুক্তি পেশ করে; তবে পরিসংখ্যানের উৎস (WHO, World Bank) সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিদ্যমান সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা উভয়ই তুলনা করা হয়েছে, যা যুক্তিসঙ্গত প্রকাশনার চরিত্র দেখায়।