ইকবাল হত্যা মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু, ১১ আসামি
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান (তাইম) হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে।
- যুক্তিতর্কের প্রথম দিনে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেছেন, ঘটনার সময় কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে কথাও বলেনি; পুলিশের সদস্যরা তাইমকে গুলি করেন, একজন উদ্ধার করার চেষ্টা করেছেন তাঁকেও গুলি করে পুলিশ, তারপর সেই ব্যক্তি তাইমকে রেখে প্রাণভয়ে দৌড় দেন।
- এই মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাঁদের একজন হলেন পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মুঠোফোনে একটি ভিডিও দেখিয়ে ইকবাল হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, “গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না”; যুক্তিতর্কে এই ভিডিও আজ দেখানো হয়।
- বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ আজ সোমবার এই মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হয়।
- প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ইকবাল হোসাইনের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন; ইকবাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল তা জানতেন এবং “গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না” বলার মাধ্যমে হত্যা চলছে বোঝান, হত্যা বন্ধ করার জন্য কোনো চেষ্টা ইকবাল করেননি।
- এই মামলার ১১ আসামির মধ্যে ৯ জন পলাতক; কারাগারে আছেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান ও সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলী।
- রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপপরিদর্শক মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে ইমাম হাসান (তাইম) নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজী নগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন; ২০২৪ সালের ২০ জুলাই ইমাম হাসান যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী–সেতুর কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
- মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে গত বছরের ২২ ডিসেম্বর, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে ২৪ ডিসেম্বর, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে; এই মামলায় ২৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।
তথ্য যাচাই
ইমাম হাসান (তাইম) এর বয়স, নারায়ণগঞ্জের আদমজী নগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হওয়া, ২০ জুলাই ২০২৪ তারিখে কাজলা পদচারী–সেতুর কাছে গুলিবিদ্ধ হওয়া — সবই প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লিখিত; ভিডিওতে ইকবাল হোসাইনের “গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না” বলার কথা প্রসিকিউটরের বক্তব্য হিসেবে উল্লিখিত।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
সংবাদে প্রসিকিউশনের পক্ষের যুক্তি ও ভিডিও প্রমাণ প্রধানভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে; আসামিদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা ব্যাখ্যা সংবাদে অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাতিত্ব দেখা যায়।