টেক্সটাইল খাতে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক হ্রাসে পদক্ষেপ
- রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে জেন্ডার-সংবেদনশীল কেমিক্যাল ব্যবস্থাপনা ও পেশাগত স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে “ন্যাশনাল স্টেকহোল্ডার্স কনসালটেশন অন দ্য জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান ইন দ্য টেক্সটাইল সেক্টর” অনুষ্ঠিত হয়।
- এই পরামর্শ সভায় পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে নারী শ্রমিকদের কার্যকর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, কেমিক্যাল ঝুঁকি মোকাবেলা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়।
- পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও জাতীয় ফোকাল পয়েন্ট কাজী সুমন বলেন, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামে বাস্তবায়িত আঞ্চলিক প্রকল্পের মূল লক্ষ্য টেক্সটাইল খাতে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিকের ব্যবহার হ্রাস করা; এর অংশ হিসেবে ১২৫টি কারখানায় রাসায়নিক দ্রব্যের তালিকা তৈরি চলছে এবং দুটি কারখানায় বিকল্প নিরাপদ উপাদান ব্যবহার শুরু হয়েছে।
- জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়ক ড. মাহফুজুল হক বলেন, বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে ৩০ লাখেরও বেশি শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের একটি বড় অংশ নারী এবং তারা বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল ও পপসের মুখোমুখি হন।
- ইন্দোনেশিয়ার বিসিআরসি-এসইএর পরিচালক ড. আন্তন পুরনোমো বলেন, পুরো অঞ্চলজুড়ে ১০ হাজার সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ শতাংশ নারী সহ তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারে কাজ চলছে।
- আঞ্চলিক জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশের ২৫টি টেক্সটাইল মিলের উপাত্ত অনুযায়ী শ্রমশক্তির ৪৮ দশমি ৫ শতাংশ নারী; ডাইং ও ওয়াশিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশে তাদের উপস্থিতি কম এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল কেমিক্যাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত সরঞ্জামের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।
- জাতীয় জেন্ডার বিশেষজ্ঞ মিস সিদ্দিকা সুলতানা বলেন, জেন্ডার অ্যাসেসমেন্টে জেন্ডার-সংবেদনশীল ঝুঁকি মূল্যায়ন, পিপিই, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং জেন্ডারভিত্তিক উপাত্তের ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছে এবং খসড়া জাতীয় জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান একটি ব্যবহারিক কাঠামো প্রদান করে।
- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ২০২৩-এ টেক্সটাইল ডাইং ও ওয়াশিং সহ ১৩টি শিল্প খাতের জন্য ১৫টি রাসায়নিকের মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা নদীকে ডাইং ও ওয়াশিংয়ের বর্জ্য দূষণ থেকে বাঁচাতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল উভয় ধরনের ইটিপি চালু রাখার আহ্বান জানান।
- এসডোর সিনিয়র টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, প্রকল্পের লক্ষ্য কেমিক্যাল সম্পূর্ণ বন্ধ করা বা পিএফএএস শনাক্ত করা নয়, বরং বর্তমানে ব্যবহৃত কেমিক্যালের ব্যবহার বিশ্লেষণ করা এবং নির্বাচিত কারখানায় গ্রিন কেমিক্যালের দিকে ধাবিত হতে নিরাপদ বিকল্প উপাদানের পাইলটিং করা।
- পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও অনুষ্ঠানের সঞ্চালক পারভেজ চৌধুরী বলেন, টেক্সটাইল খাতের প্রায় অর্ধেক শ্রমিক নারী হলেও কেমিক্যাল-সংবেদনশীল কাজে তাদের উপস্থিতি কম এবং সমাধান নারীদের বাদ দেওয়া নয়, বরং প্রতিটি কর্মক্ষেত্রকে তাদের জন্য নিরাপদ করে তোলা।
- এই পরামর্শ সভা এসডো, পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই) এবং প্রকল্প সহযোগীরা যৌথভাবে আয়োজন করে এবং এতে সরকারি প্রতিনিধি, প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।
তথ্য যাচাই
পরামর্শ সভার শিরোনাম, আয়োজনকারী সংস্থা (এসডো, ডিওই), স্থান (রাজধানীর একটি হোটেল), তারিখ (সোমবার), ১২৫টি কারখানা, ৩০ লাখ শ্রমিক, ৪৮ দশমি ৫ শতাংশ নারী, ১০ হাজার সুবিধাভোগী, ৬০ শতাংশ নারী, ১৫টি রাসায়নিক, ১৩টি শিল্প খাত — সব সংখ্যা ও তথ্য প্রথম আলো প্রতিবেদনেই উপস্থিত; অন্য কোনো উৎস থেকে যাচাই সম্ভব নয়।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
প্রথম আলো-এর প্রতিবেদনে নিরপেক্ষ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে; কোনো পক্ষপাতিত্ব বা আবেগপূর্ণ উপস্থাপনা দেখা যায় না, বরং উভয় পক্ষের (সরকারি ও নির্বাহী) বক্তব্য সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।