লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীতে দুর্নীতিতে মুখ থুবড়ে পড়ছে
- নানা অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে না এবং ব্যবসায়ীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
- ১৯৯৭ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার মূল সড়কের পাসে বাঞ্চানগর এলাকায় ১৬ একর জমিতে বিসিক শিল্পগরী প্রতিষ্ঠা করা হলেও উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
- শিল্পনগরীতে নিজস্ব পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না এবং ড্রেনেজ সিস্টেম না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি জমে।
- বিসিকের ভেতরে অনুমোদনহীন চা-সিগারেটের দোকান বসে আছে এবং নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় দিনের অধিকাংশ সময় অফিস বাউন্ডারিতে বখাটেদের আড্ডা হয়।
- নারী শ্রমিকদের আতঙ্কে রাস্তা পার হতে হয় এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীরা গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সুযোগ-সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও প্লট পাননি।
- বিগত সরকারের সিন্ডিকেটে রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশে মদদপুষ্টদের প্লট বরাদ্দ দেয়ায় প্রকৃত ব্যবসায়ী বঞ্চিত হয়েছেন।
- গত কয়েক বছর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেল্লাল বিসিকের সভাপতি এবং জামায়াত নেতা আবদুর রহিম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিন্ডিকেট চালিয়েছেন।
- মেয়াদোত্তীর্ণ সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় পুনরায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও তাদের দোসরদের কবলে বিসিক এলাকা রয়ে গেছে।
- ব্যবসায়ী নেতারা প্রকৃত ব্যবসায়ীদের হাতে প্লট হস্তান্তরসহ বিসিক সম্প্রসারণের দাবি করেছেন।
- বিসিকের উপব্যবস্থাপক মো. ফজলুল করিম বলেছেন, অনেক ব্যবসায়ী প্লট বরাদ্দের পর ব্যবসা করেননি এবং তাদের প্লট বরাদ্দ বাতিলের ব্যবস্থা করা হবে।
তথ্য যাচাই
লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পগরী ১৯৯৭ সালে ১৬ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত—সত্য; বেলায়েত হোসেন বেল্লাল স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং আবদুর রহিম জামায়াত নেতা হিসেবে সিন্ডিকেটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন—সত্য; মো. ফজলুল করিম বিসিকের উপব্যবস্থাপক—সত্য; প্লট বরাদ্দ বাতিলের ব্যবস্থা করা হবে—সত্য।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
প্রতিবেদনে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও সরকারের দোষ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে; বিসিক কর্তৃপক্ষের পক্ষে কোনো প্রতিরক্ষামূলক বক্তব্য সীমিত।