পটুয়াখালীতে কাগজে পাকা সড়ক বাস্তবে কাঁচা
- পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট থেকে রকমান ব্যাপারীবাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি কাগজে পাকা ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে, তবে বাস্তবে সড়কটি বেহাল ও কাদামাখা।
- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাগজে নথি অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটি (আইডি নম্বর ৫৭৮৫২৫১৩৩) বিটুমিনাস কংক্রিটে পাকা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
- এলজিইডি সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিওবি-এম প্রকল্পের আওতায় বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট থেকে রকমান ব্যাপারীবাড়ি পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ৩৩ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দরপত্রে মেসার্স একতা এন্টারপ্রাইজ কাজ পেয়েছে।
- ঠিকাদার মো. মাসুদ রানা বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশে প্রায় একই দৈর্ঘ্যের চাঁন মিয়া সিকদারবাড়ির সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে এবং তাঁর কোনো দায় নেই।
- এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. লুৎফর রহমান স্বীকার করেছেন, এক সড়কের বরাদ্দ দিয়ে অন্য সড়ক সংস্কারের নিয়ম আছে কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন ভুল আগেই হয়েছে।
- চাঁন মিয়া সিকদারবাড়ির সড়কটির এলজিইডির তালিকায় কোনো অনুমোদন বা আইডি নম্বর নেই, অনৈতিক আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা।
- সড়কটি দিয়ে বাঁশবাড়িয়া, মধ্যবাঁশ বাড়িয়া ও গছানী গ্রামের লোকজন যাতায়াত করেন এবং মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রজ্জবিয়া দাখিল মাদ্রাসা, মধ্য বাঁশবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আকরাম খান রেজিস্ট্রি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০০-এর বেশি শিক্ষার্থী সীমাহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছে।
- সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) দশমিনা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের শাস্তি দাবি করেছেন এবং তদন্তের দাবি করেছেন।
- এলজিইডির দশমিনা উপজেলা প্রকৌশলী এ টি এম সাদিকুর রহমান বলেছেন, আইডিবিহীন কোনো সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের সুযোগ নেই এবং বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।
তথ্য যাচাই
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বাঁশবাড়িয়া লঞ্চঘাট থেকে রকমান ব্যাপারীবাড়ি পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের কথা সংবাদে উল্লেখ আছে; ২০১০-১১ অর্থবছরে ৫০ লাখ টাকা ব্যয় এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৩ লাখ ৮ হাজার ৮৮৫ টাকা বরাদ্দের তথ্য নথি থেকে পাওয়া গেছে; চাঁন মিয়া সিকদারবাড়ির সড়কের কোনো আইডি নম্বর নেই—সব তথ্য প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে যাচাই করা যায়।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
সংবাদটি প্রথম আলোর স্বতন্ত্র তদন্তমূলক প্রতিবেদন হিসেবে উপস্থাপিত; এলজিইডি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া সীমিত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গল্প গড়া হয়েছে।