ইসরাইলের বিরুদ্ধে ৬০ দেশে নজিরবিহীন প্রতিবাদ
- ১০ অক্টোবর বিশ্বের ৬০টি দেশের ৩২৫টি স্থানে একযোগে আন্তর্জাতিক গণবিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়, যা ফিলিস্তিন ইস্যুতে নজিরবিহীন সংহতির প্রমাণ।
- এই কর্মসূচির মূল উদ্যোগকারী হলো ‘গ্লোবাল অ্যাল্যায়েন্স ফর প্যালেস্টাইন’, যার পাশাপাশি ‘অ্যান্টি-অ্যাপারথেড মুভমেন্ট’ (এএএম) ও ‘সানেদ’ সহ বিশ্বজুড়ে দুই শতাধিক সংগঠন অংশ নেয়।
- ইউরোপের ২৪টি দেশে ১৭৬টি কর্মসূচি পালিত হয়, যার মধ্যে ইতালি ও স্পেনে সবচেয়ে বড় জমায়েত হয়; রোমের কোলসিয়াম, বার্লিনের ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট এবং ব্রাসেলসে ইসরাইলি দূতাবাসের সামনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
- লন্ডনে ফিলিস্তিন সংহতি অভিযানের উদ্যোগে হাজার হাজার মানুষ মিছিল করে ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ ও ‘ফিলিস্তিন স্বাধীন করো’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাজপথে নামেন এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাছে সমাবেশ হয়।
- বার্লিনে ‘ইউনাইটেড ফর ফিলিস্তিন’ জোটের ডাকে প্রায় ৩,৫০০ মানুষ চ্যান্সেলরি ও পার্লামেন্টের মধ্যবর্তী চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইসরাইলে জার্মানির অস্ত্র রপ্তানির তীব্র সমালোচনা করে সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান।
- আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ‘আইরিশ ফিলিস্তিন সংহতি অভিযান’ এবং রোমে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ ও অস্ত্র ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তোলা হয়।
- কেপটাউনে বিশাল গণমিছিল সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা করে; লস অ্যাঞ্জেলেসে ইসরাইলি কনস্যুলেটের সামনে প্রোগ্রেসিভ সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানায়; ব্যাংককে ইসরাইলি দূতাবাস এবং মালয়েশিয়ায় মার্কিন দূতাবাসের সামনেও স্মারকলিপি প্রদান ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
- প্রথাগত মিছিলের পাশাপাশি ইতালির আলেসান্দ্রিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি শিশুদের নাম লেখা ২৫ ও ২০ মিটার দীর্ঘ কাপড়ের কাফন নিয়ে শোক শোভাযাত্রা বের করা হয়।
- মেক্সিকোতে পাখিপালনভিত্তিক প্রতীকী প্রতিবাদ, তানজানিয়ায় ‘গাজার শহীদ’ শীর্ষক নাট্যপ্রদর্শনী, ফ্রান্সে নাম পাঠের শোক অনুষ্ঠান এবং গ্রিসে সংহতি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
- ইরানে পরিবেশবিনাশী যুদ্ধাপরাধবিষয়ক সম্মেলনের সাথে শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোর আয়োজন করা হয় এবং আন্দোলনকারীরা ইসরাইলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে অনতিবিলম্বে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ, সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে বলে।
- আয়োজকরা জানান, ফিলিস্তিনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন এখন কোনো নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমানায় আবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বব্যাপী এক অভূতপূর্ব গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে এবং ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
- নয়া দিগন্ত অনলাইন প্রথম প্রবন্ধে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ বিক্ষোভ থেকে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে প্ল্যাকার্ড বহনের অভিযোগে এক পুরুষ ও এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
- অন্যদিকে ‘স্টপ দ্য হেট ইউকে’ নামে একটি ইহুদিভিত্তিক ইসরাইলপন্থী গোষ্ঠী লন্ডনে একটি ছোট পাল্টা বিক্ষোভের আয়োজন করে।
- গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১,৪৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ৭৪,২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
- ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলায় ১,২২১ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে পণবন্দি হিসেবে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়, যার জবাবে ইসরাইল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে অবরুদ্ধ উপত্যকাটির অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
- আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী ইসরাইলের পদক্ষেপকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, যদিও তেল আবিব এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তথ্য যাচাই
নয়া দিগন্ত অনলাইনের প্রথম প্রবন্ধে লন্ডনে ২০ জন গ্রেপ্তার, বার্লিনে ৩,৫০০ মানুষের বিক্ষোভ এবং দ্বিতীয় প্রবন্ধে ৬০ দেশে ৩২৫টি স্থানে প্রতিবাদের তথ্য যাচাইযোগ্য। ৭ অক্টোবর হামলায় ১,২২১ জন নিহত ও ২৫১ জন পণবন্দি এবং গাজায় ৭৪,২০০ জন নিহতের সংখ্যা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী উল্লিখিত। যুদ্ধবিরতির পর ১,৪৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহতের তথ্যও উক্ত সূত্র থেকে নেওয়া।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
প্রবন্ধগুলো ইসরাইলের সামরিক কার্যকলাপকে নিন্দিত করে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে; ‘গণহত্যা’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অবরোধ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলে ধরা হয়েছে। ইসরাইলের পক্ষে কোনো প্রতিক্রিয়া বা ব্যাখ্যা প্রবন্ধে অন্তর্ভুক্ত নয়, যা প্রবন্ধের পক্ষপাতিত্বকে প্রকাশ করে।