সিজেপি নেতা মুক্তির পর মোদিকে ভারতের অস্বস্তির কারণ বলেন
- আটকের এক দিন পর মুক্তি পেয়ে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি ‘ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ’ এবং তিনি এত বড় ‘কাপুরুষ’ ও ‘জুলুমবাজ’ এ দেশ আগে কখনো দেখেননি।
- গতকাল শনিবার মুম্বাই থেকে দিল্লি আসার পথে দিল্লি পুলিশ উড়োজাহাজের ভেতর থেকে অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে; প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর আদালতের নির্দেশে আজ রোববার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
- মুক্তির পর সিজেপি নেতারা বলেছেন, দিন দিন লড়াই আরও তীব্র হবে এবং গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়বে; দলটি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে ধরেছে।
- সৌরভ দাস সংবাদ সম্মেলনে জানান, সরকার ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে এবং নিজ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর লজ্জিত হওয়া উচিত; তাঁরা দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
- সিজেপি নেতাদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের কাউকে আটক করেনি বরং অপহরণ করেছে, প্রত্যেককে আলাদা জায়গায় রেখে ফোন কেড়ে নিয়েছে এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদেরও ছাড় দেয়নি।
- অভিজিৎ দিপকে মুক্তির পর মহারাষ্ট্রে গিয়েছিলেন তাঁর দাদির শেষকৃত্যে উপস্থিত হতে; তাঁর দাদি গত শনিবার গ্রেপ্তারের পর মারা যান।
- সিজেপি গত শনিবার যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে বেঙ্গালুরু থেকে মুম্বাই হয়ে দিল্লি পৌঁছেছিল, কিন্তু বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- সিজেপি নেতা অজিঙ্কা শিন্ডে বলেছেন, আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনো প্রশ্নই আসে না এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে অবস্থান করবেন।
তথ্য যাচাই
অভিজিৎ দিপকের মুক্তি ও মোদির সমালোচনা — প্রথম আলো ও প্রতিনিধি উভয়ই নিশ্চিত করেছে; গ্রেপ্তার শনিবার দিল্লি বিমানবন্দরে হয়েছিল — প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছে; মুক্তি আজ রোববার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হয়েছিল — প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছে; সিজেপি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে — প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছে; সৌরভ দাসের সংবাদ সম্মেলনে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মোদি-শাহর প্রতি প্রশ্ন তুলেছে — প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছে।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
সংবাদগুলো সিজেপির পক্ষে পক্ষপাতিত্বপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেছে; মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে 'কাপুরুষ', 'জুলুমবাজ' এবং 'দেশদ্রোহী' বলে অভিহিত করা হয়েছে। পুলিশ ও সরকারের বিরুদ্ধে 'অপহরণ', 'যুদ্ধ ঘোষণা' এবং 'ধমক'ের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি পক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য সংবাদে অন্তর্ভুক্ত নয়।