এআইয়ের উত্থানে প্রযুক্তি খাতের সম্পদ রেকর্ড ৪৬০ বিলিয়ন
- ২০২৬ সালে বিশ্বের ৫০০ শীর্ষ ধনীর মধ্যে প্রযুক্তি খাতের প্রায় ১০০ জনের সম্মিলিত সম্পদ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৬০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে—এটা বছরের প্রথম ৯ মাসে প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড।
- প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের সম্মিলিত সম্পদ এখন ৪০০০০০ কোটি ডলার। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ারস ইনডেক্সে যাঁরা স্থান পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে পাঁচ ভাগের এক ভাগ প্রযুক্তি খাতের হলেও সূচকভুক্ত মোট সম্পদের ৩৬ শতাংশই তাঁদের।
- মোট সম্পদ যতটা বেড়েছে, তার ৯৪ শতাংশই বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবেরদের। ১০ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক—২০১২ সালে ব্লুমবার্গ ধনকুবেরদের সম্পদ হিসাব করা শুরি করার পর এই প্রথম এমন ঘটনা।
- বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ইলন মাস্কের সম্পদ সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ৩১০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে—ব্লুমবার্গের সূচকে ধনীদের মোট সম্পদ বৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশই হয়েছে মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির কল্যাণে।
- ডেল টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেলের সম্পদ এ বছর ৮১ শতাংশ বেড়ে ২৫৪ বিলিয়ন ডলার উঠেছে—তাঁর কোম্পানির ডেটা সেন্টার ব্যবসার দ্রুত প্রবৃদ্ধি হওয়ায় এই উল্লম্ফন।
- ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের সম্পদ ২৩ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে—সেপ্টেম্বর মাসে মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ারের দাম ২৭ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রায় চার বছরের মধ্যে কোম্পানিটির সবচেয়ে পয়মন্ত সময়।
- তবে ল্যারি এলিসনর সম্পদ এক বছর পর ১৯৬ বিলিয়ন ডলার কমেছে—ওরাকলের ঋণের ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে এবং ঋণখেলাপি হওয়ার বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ নেওয়ার ব্যয় প্রায় রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে।
- এআই অবকাঠামো সরবরাহকারী অ্যান্থ্রপিকের মূল্যায়ন ৯৬৫ কোটি ডলারে পৌঁছানোর পর এর সাত সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্লুমবার্গের ধনীদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন—এছাড়া ডিপসিক ও মিনিম্যাক্সের প্রতিষ্ঠাতারাও এআইয়ের উত্থানে সম্পদশালী হয়েছেন।
- তাইওয়ান ও চীনের সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিকেরাও লাভবান হচ্ছেন—স্যামসাংয়ের উত্তরাধিকারী পরিবার ও টিএসএমসি ও মিডিয়াটেকের শীর্ষ ব্যক্তিরাও এ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
তথ্য যাচাই
প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের সম্মিলিত সম্পদ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৬০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে; বিশ্বের ৫০০ শীর্ষ ধনীর মধ্যে প্রায় ১০০ জন প্রযুক্তি খাতের; ইলন মাস্কের সম্পদ ৩১০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে; মাইকেল ডেলের সম্পদ ২৫৪ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে; মার্ক জাকারবার্গের সম্পদ ২৩ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে; ল্যারি এলিসনের সম্পদ ১৯৬ বিলিয়ন ডলার কমেছে; অ্যান্থ্রপিকের মূল্যায়ন ৯৬৫ কোটি ডলার। এই তথ্যগুলো প্রতিবেদনে সরাসরি উল্লেখ আছে।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
প্রতিবেদনটি প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের সম্পদ বৃদ্ধির ইতিবাচক দিকটিকে তুলে ধরেছে, কিন্তু একইসঙ্গে ওরাকলের ঋণের ঝুঁকি ও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কথাও উল্লেখ করেছে। এটি নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে উপস্থাপিত।