সাজেকে সড়ক অবরোধ, পর্যটকদের গাড়িবহর আটকে ছিল তিন ঘণ্টা
- রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি নামের দুটি সংগঠন অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল।
- সংগঠন দুটির অভিযোগ, সাজেকে সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে আঞ্চলিক দল জেএসএস (সন্তু লারমা), যা স্থানীয় জনসাধারণকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
- গত বৃহস্পতিবার সমাবেশ করে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তবু ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ রোববার সকাল ছয়টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ শুরু হয়।
- আজ সকাল থেকে সাজেকগামী ও ফেরার পথে পর্যটকবাহী গাড়িবহর প্রায় তিন ঘণ্টা সড়কে আটকে ছিল; মাচালং বাজার ও উজোবাজার এলাকায় বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়েছিল।
- খাগড়াছড়ি মাহিন্দ্রা মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল গণি জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনার পর বিক্ষোভকারীরা সরে গেলে গাড়িগুলো গন্তব্যে রওনা দিয়েছে।
- সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা বলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের কাছে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে; দাবি মানলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হবে।
- জেএসএসের প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
- ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, ইউপিডিএফের চাপে কোনো সংগঠন অবরোধ কর্মসূচি দেয়নি, তবে সাধারণ জনগণের হয়ে দুটি সংগঠনের কর্মসূচির প্রতি ইউপিডিএফের সমর্থন থাকবে।
- আজ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন; পর্যটকদের প্রবেশ ও অবস্থান বন্ধ থাকবে।
- রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেন; বর্তমানে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের আগামী মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাজেকে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না; পর্যটকবাহী গাড়ি নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় বেলা দুইটায় সাজেক থেকে বের হবে।
- সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, বর্তমানে সাজেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন।
- খাগড়াছড়ি মাহিন্দ্রা মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি টুন্টু মনি চাকমা বলেন, দৈনিক গড়ে ৩০টি মাহিন্দ্রা ও জিপে প্রায় আড়াই হাজার পর্যটক সাজেকে যান; অবরোধের কারণে পর্যটকরা বাঘাইহাটের পরে আর যেতে পারেননি।
তথ্য যাচাই
সাজেকে দুটি সংগঠনের অবরোধ, তিন ঘণ্টা আটকে থাকা, জেএসএসের অভিযোগ, ইউপিডিএফের প্রতিক্রিয়া, ৪৮ ঘণ্টার শিথিলতা, জেলা প্রশাসনের বন্ধ নির্দেশনা — সব তথ্য প্রতিবেদনে উল্লিখিত; অন্য কোনো বাহ্যিক তথ্য যাচাই করা হয়নি।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
সংবাদগুলো প্রধানত প্রথম আলোর প্রতিনিধি হিসেবে প্রকাশিত; উভয় প্রবন্ধে জেএসএস ও ইউপিডিএফের বিবৃতি সমানভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তবে স্থানীয় সংগঠনের দাবিকে বেশি প্রাথমিক ভূমিকায় দেখানো হয়েছে।