সিজেপি প্রতিবাদে দিল্লিতে ধরপাকড়, ৭ হাজারের বেশি আটক
- গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিবাদ বিক্ষোভের আগে পুলিশ ৭ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছিল, বেশিভাগকে শনিবার রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
- সিজেপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনে (এসআইআর) অনিয়মের অভিযোগে যন্তর মন্তরসহ পুরো দিল্লি অবরুদ্ধ করে রাখতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল।
- কেন্দ্রীয় সরকার ৪৫টি মেট্রোস্টেশন, রাজ্য থেকে দিল্লিগামী ট্রেন ও বাসের চলাচল বন্ধ করে দিয়ে যন্তর মন্তরের আশপাশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করেছিল।
- সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সেইসাথে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে মুম্বাই থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামতেই আটক করা হয়েছিল; ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় আটক হয়েছিল।
- পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করা হয়েছিল, পরে দুজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
- ধ্রুব রাঠি মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, তাঁকে গ্রেপ্তার নয়, বরং ‘অপহরণ’ করা হয়েছে; তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে দেশকে একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
- সিজেপি নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে জানিয়েছেন, রোববার (১১ অক্টোবর) আবার যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করা হবে এবং আজ বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হবে।
- দিল্লি পুলিশ শনিবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছিল বলে জানিয়েছে; দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন ৪৫টি বন্ধ মেট্রো স্টেশন আজ খুলে দিয়েছে।
- অন্যদিকে মুম্বাইয়ে বিক্ষোভে অভিনেতা ইমরান খান এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী আটক হয়েছিল; ছাত্রনেতা নেহা বোরা পরে মুক্তি পেয়েছেন।
- শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক বিক্ষোভকারীদের আটক সবাইকে আজকের মধ্যে মুক্তি দেওয়া না হলে অনশন বা পদযাত্রা কর্মসূচি করার কথা বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
- রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সিইসি জ্ঞানেশের দায়িত্বে থাকা কিংবা বিদায়—দুই ক্ষেত্রেই বিজেপির জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে এবং বিরোধীদের অভিযোগ অনুযায়ী ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে।
তথ্য যাচাই
সিজেপি প্রতিবাদ, ৭ হাজারের বেশি আটক, অভিজিৎ দীপকে ও ধ্রুব রাঠির আটক, মমতা ও কেজরিওয়ালের মুক্তি, সিইসি জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবি, ৪৫টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ, ইন্টারনেট বন্ধ, ১৩ কোটির বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়া—সবই প্রদত্ত নিবন্ধে উল্লিখিত; অভিজিৎ দীপকের ভিডিও বার্তায় অজিঙ্ক শিন্ডের প্রতিশ্রুতি ও সোনম ওয়াংচুকের অনশন আহ্বানও নিবন্ধে আছে।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
নয়া দিগন্ত অনলাইন সিজেপির দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে অভিজিৎ দীপকে ও ধ্রুব রাঠিকে মুক্তি দেওয়ার অপেক্ষায় রাখা হয়নি এমনভাবে উপস্থাপন করেছে; প্রথম আলো ও হিন্দুস্তান টাইমস সিজেপি প্রতিবাদ ও পুলিশের পদক্ষেপ উভয়কেই সমালোচনামূলকভাবে তুলে ধরেছে; রয়টার্স সিইসি জ্ঞানেশের বিশ্লেষণে নিরপেক্ষ ভাষা ব্যবহার করেছে এবং বিজেপির ঝুঁকিকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষণ করেছে।