ঢাকায় সুউচ্চ ও পরিবেশবান্ধব আবাসন প্রকল্প বাড়ছে
- প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে বিটিআই-র এম মাহবুবুর রহমান বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে আবাসন মানে শুধু ঠিকানাই নয়, বরং উন্নত জীবনযাপনের চাবিকাঠি; তাই তারা স্মার্ট হোম প্রযুক্তি, হোম অটোমেশন, ল্যান্ডস্কেপড রুফটপ ও কমিউনিটি ফ্যাসিলিটি যুক্ত করছেন।
- বিটিআই প্রতিটি নির্মাণ পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে—যেমন স্মার্ট ডোর লক, ভিডিও ডোরফোন, নিরাপত্তা ক্যামেরা, গ্যাস লিকেজ ডিটেক্টর, রিমোট-কন্ট্রোলড লাইট ও স্মার্ট লাইটিং—যা নিরাপত্তা বাড়ায় এবং বিদ্যুৎ বিল কমাতে সাহায্য করে।
- নির্মাণসামগ্রীর ক্রমবর্ধমান মূল্য আবাসন খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ, তবে বিটিআই দক্ষতা ও ব্যয়সাশ্রয়ী পরিকল্পনার মাধ্যমে দাম স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে এবং সব শ্রেণির ক্রেতার জন্য বাস্তবসম্মত আবাসন নিশ্চিত করতে চায়।
- প্রথম আলো অনুসারে, ঢাকায় সুউচ্চ ভবনের সংখ্যা বাড়ছে; বর্তমানে ৫০০ ফুট উচ্চতার একাধিক ভবন নির্মাণাধীন, যার মধ্যে শান্তা পিনাকেলের ৪০ তলা ভবন দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন হিসেবে নির্মাণ শেষ হয়েছে।
- শান্তা হোল্ডিংস-এর শিহাব আহমেদ বলেন, তেজগাঁওয়ে শান্তা ওয়েস্টার্ন টাওয়ার, ফোরাম, পিনাকল ও ঢাকা টাওয়ার নির্মাণ করেছেন; পিনাকল দেশের প্রথম উইন্ড টানেল টেস্টেড ভবন এবং ঢাকা টাওয়ারে বিআইএম সফটওয়্যার, ৪২ মিলিমিটার পুরু কাচ ও অ্যালুমিনিয়াম ফরমওয়ার্ক প্রযুকি ব্যবহার করা হচ্ছে।
- শান্তা হোল্ডিংস-এর প্রধান স্থপতি মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ বলেন, সিম্পল ট্রি গ্রুপের সিম্পল ট্রি জিএসআর ভবনে দ্বিস্তরবিশিষ্ট বিশেষ কাচ ও প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের চলাচলের মাধ্যমে ১৫–২০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে।
- রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি তানভীরুল হক প্রবাল এবং বিআইপি সাবেক সভাপতি আদিল মুহাম্মদ খান উভয়েই বলেন, সুউচ্চ ভবন নির্মাণে পরিবেশবান্ধব নীতি ও যথাযথ ব্লক ডেভেলপমেন্ট না মেনে যত্রতত্র উঁচু ভবন বানালে জনঘনত্ব ও ঝুঁকি বাড়বে।
- আদিল মুহাম্মদ খানের মতে, এক একর জমিতে চারপাশে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা ও সবুজায়ন রেখে ব্লক ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমেই টেকসই উঁচু ভবন নির্মাণ সম্ভব; সিঙ্গাপুরে সুউচ্চ ভবনের মাঝে ৫০–৭০ মিটার ফাঁকা থাকে, কিন্তু বাংলাদেশে তা মাত্র ৫–১০ মিটার।
- রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল বলেন, ২০৩৫ সালে জনসংখ্যা ২৫ কোটি হতে পারে; এমন প্রেক্ষাপটে সুউচ্চ ভবন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই, তবে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, অগ্নিনির্বাপণ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
- বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠান বলছে, এক দশক আগে ৫–১০ কাঠার প্লটে ছোট প্রকল্প হতো, এখন পাশাপাশি থাকা কয়েকটি জমির মালিক মিলে বড় প্রকল্প নির্মাণ করছে, ফলে ৮০–৯০ কাঠা বা তার বেশি জায়গায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব আবাসন গড়ে উঠছে।
- শান্তা হোল্ডিংস-এর সিএসও শিহাব আহমেদ বলেন, সুউচ্চ ভবনে কাঠামোগত নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের জন্য ভূমিকম্প ও বায়ুচাপের ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, উইন্ড টানেল টেস্ট ও বিশ্বখ্যাত প্রকৌশলীদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে।
- রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি তানভীরুল হক প্রবাল বলেন, পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ ব্যয়বহুল, সরকার যদি প্রণোদনা দেয় তবে উৎসাহ বাড়বে; না হলে এই ভবন অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে থাকবে।
তথ্য যাচাই
বিটিআই প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রবন্ধে আবাসন প্রকল্পের কথা বলেছে; শান্তা পিনাকেলের ৪০ তলা ভবন দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন হিসেবে প্রথম আলোতে উল্লিখিত; শান্তা হোল্ডিংসের সিএসও শিহাব আহমেদের সাক্ষাৎকার প্রথম আলোতে প্রকাশিত; বিআইপি সাবেক সভাপতি আদিল মুহাম্মদ খানের মতামত প্রথম আলোতে আছে।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
প্রথম আলো প্রধানত আবাসন প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণ পেশাদারদের ইতিবাচক মতামত তুলে ধরেছে; পরিবেশবান্ধব নির্মাণের পক্ষে এবং সুউচ্চ ভবনের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের কথা রাখা হয়েছে, তবে সরকারি নীতি বা বিপরীত মতের প্রতিনিধিত্ব সীমিত।