ইসলামে অতিথি হিসেবে মুমিনের ছয়টি কর্তব্য
- মেহমানদারি ও অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শন ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং অন্যের ঘরে গেলে মুমিনের নির্দিষ্ট কিছু আদব ও দায়িত্ব রয়েছে।
- কারও বাড়িতে গেলে অতিথির প্রথম সৌজন্য হলো সালাম দেওয়া, যা কোরআনে সুরা নূর, আয়াত ৬১-এ আদেশ হিসেবে উল্লেখ আছে।
- কোরআনে বলা হয়েছে, হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কোনো ঘরে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না অনুমতি নাও—সুরা নূর, আয়াত ২৭।
- অতিথি হিসেবে হঠাৎ অনুমতি ছাড়া বাড়িতে উপস্থিত হওয়া উচিত নয়, বরং আগে ফোনকল বা খুদে বার্তার মাধ্যমে সময় নিশ্চিত করা উচিত।
- মেহমানের উপস্থিতি স্বাগতিকের জন্য আনন্দের হতে হবে, কোনোভাবেই তা বোঝা বা ক্ষতির কারণ হতে পারে না—এ বিষয়টি সবসময় মনে রাখা প্রয়োজন।
- মেহমানের সামনে খাবার পরিবেশন করা স্বাগতিকের ভালোবাসার প্রকাশ, এবং খাবার নিয়ে অযথা প্রত্যাশা, তুলনা বা সমালোচনা করা অতিথির জন্য শোভন নয়।
- হাদিসে বলা হয়েছে, নবীজি (সা.) কখনো কোনো খাবারের সমালোচনা করতেন না; পছন্দ হলে খেতেন, অপছন্দ হলে বর্জন করতেন—সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ৩২৫৫।
- মেহমানদারি সওয়াবের কাজ হলেও, মেহমানেরও দায়িত্ব স্বাগতিকের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি না করা এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘ সময় অবস্থান না করা।
- রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে—বিশেষ সমাদর এক দিন এক রাত, মেহমানদারি তিন দিন, এরপর সদকা—সহিহ বুখারি, হাদিস ৬১৩৫।
- সময়মতো বিদায় নেওয়াও স্বাগতিকের প্রতি সম্মানের অংশ; বিদায়ের আগে ‘আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন’—এই কথা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুন্দর স্বীকৃতি।
- রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তোমাদের প্রতি কোনো উপকার করে, তোমরা তাকে তার প্রতিদান দাও—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ১৬৭২; প্রতিদান বস্তুগত না হতে পারে, আন্তরিক ধন্যবাদ, দোয়া বা সুন্দর কথাও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যম।
- এই নীতিগুলো প্রকাশ করেছেন আলেম ও গবেষক রায়হান আল ইমরান, প্রথম আলো-তে প্রকাশিত এই লেখায়।
তথ্য যাচাই
কোরআনের সুরা নূর আয়াত ৬১ ও ২৭, সহিহ বুখারি হাদিস ৬১৩৫, সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩২৫৫, সুনানে আবু দাউদ হাদিস ১৬৭২, এবং দারাকুতনি ৩/৭৭-এর উল্লেখ প্রবন্ধে রয়েছে; রায়হান আল ইমরানের লেখা প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
লেখাটি ধর্মীয় উৎসভিত্তি; বিশেষ কোনো পক্ষপাতিত্ব বা সমালোচনামূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়নি, বরং শান্তিপূর্ণ শিক্ষামূলক উপস্থাপনা দেখা যায়।