রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত
- গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) আনুমানিক বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এর ওপর ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে।
- এই হামলায় ২ বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হন: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি এবং বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মো. শাহেদ আহম্মেদ।
- নিহতদের মধ্যে নাসরুল্লাহ বদরপুরি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ওমরাহ পালনে গিয়েছিলেন; শাহেদ আহম্মেদ সৌদি আরবেই কাজ করতেন।
- হামলায় চারজন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়ে রিয়াদের কিং খালেদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন; এছাড়া অক্ষত অবস্থায় দুজন যাত্রী রয়েছেন।
- সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন (সৌদি ৪, বাংলাদেশি ২, এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসর থেকে প্রত্যেকে ১ জন) এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ রোববার সাংবাদিকদের জানান, সরকার নিহতদের পরিচয় শনাক্তে সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করছে এবং মৃতদেহ দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করছে; এই ঘটনায় যারা নিহত হয়েছে তাদের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হবে রাষ্ট্রীয় খরচে।
- প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হয়: মো. শাহেদ আহম্মেদের বাবা মো. রফিকুল ইসলাম ও মা শাহেরা বেগম, আর নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ ও মা জাহানারা বেগম।
- হামলার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রিয়াদগামী ফ্লাইট আপাতত স্থগিত করেছে; ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী গতকাল ১৫৫টি আগমনী ও ১৬১টি বহির্গামী ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং ২২২টি ফ্লাইটের উড্ডয়ন-অবতরণে দেরি হয়েছে।
- বাংলাদেশ সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং জানিয়েছে, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্নকারী এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে যে কোনো হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরবি সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, শনিবার দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মাম শহরের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে।
- প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বিগত দিনে ১৪ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন এবং তিনি আশা করেন এই বিপর্যয় ও আক্রমণ বন্ধ হবে।
- নাসরুল্লাহ বদরপুরির ভগ্নিপতি মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, নাসরুল্লাহ শনিবার সকালে ঢাকা ছেড়ে রিয়াদে ট্রানজিটের জন্য গিয়েছিলেন এবং ওমরাহ দলে ৪৫ জনের মধ্যে ৩২ জন অক্ষত, কিন্তু নাসরুল্লাহ মারা গেছেন।
- হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এই হামলার দায় স্বীকার করেছেন, জানিয়েছেন ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
তথ্য যাচাই
সংবাদে উল্লিখিত নিহত দুই বাংলাদেশির নাম (মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি ও মো. শাহেদ আহম্মেদ), তাদের গ্রাম/উপজেলা (বগুড়া শাহজাহানপুর মাদলা ও কুমিল্লা নাঙ্গলকোট বদরপুর), বিমানবন্দরের নাম (কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, টার্মিনাল-৩), হামলার সময় (গতকাল শনিবার আনুমানিক ৩:২০), আহত সংখ্যা (৪ বাংলাদেশি আইসিইউতে), মোট নিহত (১২ জন) এবং আহত (৩০৯ জন) — সবগুলোই প্রতিটি প্রবন্ধে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উল্লিখিত; ফ্লাইট স্থগিত ও বাতিলের তথ্যও একাধিক সূত্রে যাচাইকৃত।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
সব প্রবন্ধই সরকারি সূত্র ও সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা; প্রথম আলো ও নয়া দিগন্ত সরকারি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রধানভাবে উদ্ধৃত করেছে, বিবিসি বাংলা পরিবারের সাক্ষাৎকার ও মাদ্রাসার তথ্য আলাদাভাবে তুলে ধরেছে এবং রয়টার্স প্রত্যক্ষদর্শী ও ফ্লাইটরাডার২৪-এর ডেটা যোগ করেছে; কোনো প্রবন্ধেই স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব বা একপাশীয় ভাষা লক্ষ্য করা যায় না, তবে হুতিদের দায় স্বীকারের পরিস্থিতি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে।