ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের দেওয়া হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, তেহরান এমন একটি চুক্তি করতে চায় যার মাধ্যমে তারা দ্রুত প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে, কারণ তারা 'খুব বাজেভাবে হারছে'।
- হরমুজ প্রণালী দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ গ্যাস ও তেল সরবরাহ পরিবহন করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাবের জন্য অপেক্ষা করবে। তিনি জানান, প্রস্তাবের শর্তগুলো জুন মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকেরই অনুরূপ।
- একই সময় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং ইরান ও কিউবা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।
- ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় এখন আর ইরানের আস্থা নেই। তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই।'
- ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ইতোমধ্যেই হরমুজের ওপর 'সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ' রয়েছে এবং 'বিপুল পরিমাণ তেল' এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ইরানের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হবে না।
- প্রায় সাত মাস ধরে চলমান ইরান যুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে।
- ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানান, ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তি দেয়া বন্ধ করব না।
তথ্য যাচাই
ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন — এটি বেশ কয়েকটি সূত্রে যাচাইকৃত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আনুষ্ঠানিক জবাবের জন্য অপেক্ষা করছেন — মানবজমিন ও নয়া দিগন্তে উল্লেখ আছে। চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং জাতিসংঘে ইরান ও কিউবা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করেছেন — বাংলা নিউজ ২৪ ও প্রথম আলোতে প্রতিবেদন আছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আস্থা নেই বলে জানিয়েছেন — প্রথম আলো ও আল-জাজিরায় উল্লেখ আছে।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
বেশিরভাগ সূত্র রয়টার্সের প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে, যা একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা। প্রথম আলো ও বাংলা নিউজ ২৪ একই প্রতিবেদনকে কভার করেছে বলে দেখা যায় প্রধান ধারা একই। চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির বিরোধিতা স্পষ্টভাবে প্রতিবেদন করা হয়েছে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তার সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি পেশা করা হয়েছে।