প্রশ্নপত্র ফাঁসে পরীক্ষা স্থগিত, ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা সড়ক অবরোধ
- রাজধানীর ৯৫টি কেন্দ্রে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা শনিবার বেলা ১১টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল।
- প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুত ছিলেন।
- পরীক্ষার প্রস্তুতি চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার খবর আসায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পরীক্ষা স্থগিত করে।
- ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শাহবাগ, মতিঝিল, নীলক্ষেত মোড় ও সাতমসজিদ সড়কসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করেন।
- পরীক্ষা স্থগিতের পর যাতায়াত, থাকা ও প্রস্তুতির খরচের পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়ানো হয়েছে প্রার্থীদের।
- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে; কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
- স্থগিত পরীক্ষাটি ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বেলা তিনটায় নেওয়ার প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা আয়োজন, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণদাবি করা হয়েছে।
- আইএমএফের সেপ্টেম্বর সংস্করণ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জন বেকার।
- জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ পার্টি, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ জানিয়েছে।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এই ঘটনাকে ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
- নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গত ১৭ মে প্রকাশিত হয় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর প্রথম বিজ্ঞপ্তি ছিল।
- যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মো. সাইফুজ্জামানকে ৫ জুলাই সরিয়ে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান দুর্নীতি দমন কমিশনের মোতাহার হোসেন।
- প্রশ্নপত্র তৈরি ও ফটোকপি রাত সাড়ে ১০টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মতিঝিলের জীবন বীমা টাওয়ারের চতুর্থ তলায় হয়েছিল।
- নিয়োগ কমিটির সভাপতি ডি এম আতিকুর রহমান প্রশ্নপত্র ফাঁসকে ‘মিরাকল’ বলে অভিযোগ করেছেন; কমিটির অন্য সদস্য মিজানুর রহমান বিব্রত প্রকাশ করেছেন।
- সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে অধিদপ্তরের নিজেদের মধ্য থেকেই এবং তদন্ত কমিটিতে নিজেদের কর্মকর্তা রাখা হয়নি।
- দৈনিক নায়া দিগন্তের সম্পাদনীয়ে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ব্যবস্থাগত সমস্যায় মনে করে এবং পিএসসি-তুল্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দিয়েছে।
তথ্য যাচাই
প্রশ্নপত্র ফাঁস, ২৪২টি পদ, ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী, ৯৫টি কেন্দ্র, শনিবার পরীক্ষা, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার নতুন তারিখ, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি, তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন, আইএমএফ প্রতিবেদনে প্রতি ১০০ শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জন বেকার—সবই প্রদত্ত নিবন্ধে উল্লিখিত তথ্য। নির্দিষ্ট অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় ও অর্থ লেনদেনের পরিমাণ যাচাই হয়নি।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ক্ষমতাসীন বিএনপির ছাত্রসংগঠনের পক্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে 'অমার্জনীয় অপরাধ' ও 'ব্যর্থতার প্রতিফলন' আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোও প্রতিবাদ জানিয়েছে—উভয় পক্ষের স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নয়া দিগন্তের সম্পাদনীয় সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার সমালোচনায় বেশি প্রবণ।