মারুবেনি বিনিয়োগের আশ্বাস, সরকার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
- রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসাইউকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন।
- বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছেন বলে আশ্বাস দেন।
- মারুবেনি করপোরেশন বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি সার উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি, অটোমোবাইল ও জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে।
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মারুবেনি করপোরেশনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পাটজাত পণ্যের ব্যবসায়িক সম্পর্কের সম্প্রসারণ এবং নতুন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- বৈঠকে পাটশিল্পের বহুমুখীকরণ, তুলা·ভিসকস·পলিয়েস্টারের সঙ্গে পাটের আঁশ মিশিয়ে নতুন পণ্য উৎপাদন, উন্নত বীজ উদ্ভাবন ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।
- মারুবেনির সিইও জানান, যৌথ বিনিয়োগে পরিচালিত বিজেআইটির শত শত বাংলাদেশি প্রকৌশলী জাপানসহ আন্তর্জাতিক বাজারে সেবা দিচ্ছেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আইটি অফশোরিং খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।
- টয়োটা ব্র্যান্ডের গাড়ি নির্মাণ প্রস্তাব, জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে পরিবেশসম্মত আধুনিক প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ক্ষুদ্র মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি (এসএমআর) প্রযুক্তির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
- বাণিজ্যমন্ত্রী কোম্পানি নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন।
- বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান উপস্থিত ছিলেন; উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা ও সিইপিএর সম্ভাব্য সুফল কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে।
- প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, আগামী ১২ মাসের মধ্যে বাংলাদেশে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ডেটা সেন্টার চালুর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয় এবং মারুবেনি করপোরেশন কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) এর দ্বিতীয় কারখানা স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করে।
তথ্য যাচাই
বৈঠক রোববার (১১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত—তিনটি প্রবন্ধেই এই তারিখ ও স্থান মেলে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, মারুবেনির সিইও মাসাইউকি ওমোতো, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের উপস্থিতি সব প্রবন্ধে উল্লিখিত। মারুবেনি করপোরেশনের দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুসুমু ওয়াকামোরি এবং বাংলাদেশে কান্ট্রি হেড মানাবু সুগাওয়ারার উল্লেখ মানবজমিন প্রবন্ধে আছে।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
সব প্রবন্ধই সরকার ও মারুবেনি করপোরেশনের ইতিবাচক ভাষা ব্যবহার করেছে; কোনো সমালোচনামূলক বা সংযত দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়নি। প্রথম আলো ও মানবজমিন প্রায় একই বিষয়বস্তু আবৃত্তি করেছে, নয়া দিগন্তে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা আরও তুলে ধরা হয়েছে।