কুমিল্লায় কিশোরী হত্যায় সিএনজিচালক সুমনের জবানবন্দি
- কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেতে মরদেহ উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির কিশোরী জান্নাতুল তাজমীন (১৫ বছর) ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়া (৩৫) আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
- শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হকের কাছে জবানবন্দি দেন সুমন; রাত আটটার দিকে তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
- পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়ার ধানখেতের আইলের পাশ থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়; মরদেহের অদূরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া যায়।
- কিশোরী পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে বাসায় ফেরার জন্য অটোরিকশায় উঠেছিল; শর্টকাট পথে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন তাকে নির্জন এলাকায় নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
- পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক তদন্তে সুমনের এককভাবে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
- কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেন।
- সুমনকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে কিশোরীর ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।
- কিশোরী যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের বাড়িতে থাকত; বাবা আব্দুল আলীম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কুমিল্লায় কর্মরত।
- কিশোরী কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ত; পরিবার কুমিল্লায় ভাড়া বাসায় থাকত।
- পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরী গত ৪ অক্টোবর বাসা থেকে বের হয়েছিল; ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে অটোরিকশায় ওঠে সে।
- পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না তা এখনো নিশ্চিত হয়নি; কিশোরীর মা এক বান্ধবীর ভূমিকায় সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
- ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে কিশোরীকে অটোরিকশায় বসে থাকতে দেখা গেছে; অটোরিকশায় অন্য কেউ ছিল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্য যাচাই
কিশোরীর নাম (জান্নাতুল তাজমীন), বয়স (১৫), শ্রেণি (সপ্তম), গ্রেপ্তারের তারিখ ও স্থান, জবানবন্দি দেওয়ার তারিখ ও আদালত, আইফোন উদ্ধারের স্থান (বাখরাবাদ), কিশোরীর বাসস্থান (যশোর ছাতিয়ানতলা) — সব তথ্য প্রতিবেদনে উল্লিখিত।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
সংবাদমাধ্যমগুলো পুলিশের তথ্য ও জবানবন্দির ভিত্তিতে প্রতিবেদন করেছে; কিশোরীর পরিবারের সন্দেহ ও বান্ধবীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যা বিচারপূর্ব অবস্থায় অপরাধীকে সম্ভাব্য সহযোগী হিসেবে উপস্থাপন করে — কিন্তু এটি পুলিশের স্বীকারোক্তিমূলক তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন তোলা।