সংবিধানে রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় বিচার বিভাগ থাকুক
- সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির বৈঠকে জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে বিচার বিভাগের সংজ্ঞায় অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে
- অনুচ্ছেদ ১৫২-এ ‘রাষ্ট্র’ বলতে সংসদ, সরকার ও সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষকে বোঝানো হয়, বিচার বিভাগ বাদ পড়ে আছে
- লেখক মনে করেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংসদ আইন তৈরি করে, সরকার বাস্তবায়ন করে আর বিচার বিভাগ আইন ব্যাখ্যা করে ও নিয়ন্ত্রণ করে
- অনুচ্ছেদ ২২ অনুযায়ী রাষ্ট্র বিচার বিভাগকে নির্বাহী থেকে আলাদা রাখবে এবং মাসদার হোসেন মামলায় বিচার বিভাগীয় চাকরি প্রজাতন্ত্রের চাকরি হলেও সাধারণ সরকারি চাকরির মতো নয় বলা হয়েছে
- রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় বিচার বিভাগ না থাকায় আদালতকে সমান অংশীদার না দেখে প্রয়োজনমতো ব্যবহারের জায়গা হিসেবে দেখা হয় এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ঐচ্ছিক মনে করা হয়
- অন্তর্বর্তী সরকার সুপ্রিম কোর্টের অধীনে সচিবালয় গঠনের অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যা নতুন সরকার বাতিল করেছে; বিচার বিভাগ যখন প্রশাসনিক স্বাধীনতা চায়, রাজনৈতিক ক্ষমতা তাকে প্রায়ই ফিরিয়ে আনে
- লেখক যুক্তি দেন, ফৌজদারি মামলায় ‘রাষ্ট্র’ শুধু জনস্বার্থের প্রতীক, আসল পক্ষ সরকার; সংজ্ঞায় বিচার বিভাগ যোগ করলে বিচারক মামলার পক্ষ হয়ে যাবে না
- সদিচ্ছা থাকলে অনুচ্ছেদ ১৫২-এ বিচার বিভাগ যোগ করা সম্ভব, যেন সাধারণ বিচারিক রায় শুধু এই কারণেই সরকারি সিদ্ধান্তের মতো চ্যালেঞ্জ করা যাবে না বলে একটি লাইন যোগ করা যেতে পারে
- এই পরিবর্তন নতুন সচিবালয় বা নিয়োগ পদ্ধতি বদলাবে না, কিন্তু দীর্ঘদিনের নীরবতা কাটবে এবং সংবিধানে তিনটি পূর্ণ অংশের সমতা স্বীকৃতি দেবে
- ১৯৭২ সালে সংবিধান লেখকেরা গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ক্ষমতা পৃথক্করণ চেয়েছিলেন; রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় বিচার বিভাগ যোগ করলে অপ্রয়োজনীয় নীরবতা শেষ হবে
তথ্য যাচাই
সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির বৈঠক দেশের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে হয়েছে—সত্য; অনুচ্ছেদ ১৫২-এ রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় বিচার বিভাগ বাদ আছে—সত্য; অনুচ্ছেদ ২২-এ বিচার বিভাগকে নির্বাহী থেকে আলাদা রাখার কথা আছে—সত্য; মাসদার হোসেন মামলায় বিচার বিভাগীয় চাকরি প্রজাতন্ত্রের চাকরি নয়—সত্য; অন্তর্বর্তী সরকারের সচিবালয় অধ্যাদেশ নতুন সরকার বাতিল করেছে—সত্য
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
লেখক বিচার বিভাগকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে arguments দিয়েছেন; তবে বিপরীত যুক্তি (যেমন বিচারক মামলার পক্ষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা) তুলে ধরে সেই যুক্তিকে অস্বীকার করেছেন—এটি একটি পক্ষপাতদুষ্ট লেখা নয়, বরং বিশ্লেষণমূলক