অমিতাভ বচ্চনের ৮৪তম জন্মদিনে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ
- ১১ অক্টোবর অমিতাভ বচ্চনের ৮৪তম জন্মদিন; তিনি ১৯৪২ সালে উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে (বর্তমানে প্রয়াগরাজ) জন্মেছিলেন।
- ১৯৮২ সালের ২৬ জুলাই বেঙ্গালুরুতে 'কুলি' সিনেমার শুটিংয়ের সময় একটি মারপিটের দৃশ্যে গুরুতর আহত হন; পেটে আঘাত পেয়ে অন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে একাধিক অস্ত্রোপচার করান।
- দুর্ঘটনার পর ভারতজুড়ে ভক্তদের উদ্বেগ ও প্রার্থনার কেন্দ্র হয়ে ওঠেন তিনি; পরে তিনি এই ঘটনাকে নতুন জীবন পাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
- দুর্ঘটনার কারণে 'কুলি' সিনেমার শেষে অমিতাভের চরিত্রের মৃত্যু বদলে দেওয়া হয়; ১৯৮৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবি বছরের অন্যতম বড় ব্যবসাসফল সিনেমা হয়।
- ২০১৭ সালে অমিতাভ জানিয়েছিলেন, দুর্ঘটনার পর রক্তসঞ্চালনের মাধ্যমে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে; ২০০০ সালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যকৃতের প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
- রাজনীতিতে ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে এলাহাবাদ আসন থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হন; ১৯৮৭ সালে সংসদ সদস্যের পদ ছেড়ে দেন।
- বফর্স কামান কেনাকাটার বিতর্কে অমিতাভ ও তাঁর পরিবারের নাম জড়িয়ে পড়ে; সাবেক সুইডিশ পুলিশ কর্মকর্তা স্টেন লিন্ডস্ট্রম দাবি করেছিলেন, কিন্তু সিবিআইর কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন অমিতাভের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।
- অব্যস্ত ব্যবসায়িক উদ্যোগ 'অমিতাভ বচ্চন করপোরেশন লিমিটেড' (এবিসিএল) আর্থিক সংকটে পড়ে; সঞ্চিত লোকসান ৭০ কোটি রুপির বেশি হয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি অসুস্থ কোম্পানি ঘোষিত হয়।
- ঋণদাতারা তাঁর বাড়িতে এসে টাকা চাইতেন; পেশাজীবনের অন্ধকার সময়ের একটি ছিল সেটি।
- প্রতিবেশী যশ চোপড়ার কাছে গিয়ে কাজ চেয়ে 'মোহাব্বতে' (২০০০) সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান; পরে 'কৌন বনেগা ক্রোড়পতি' (২০০০) টিভি শো সঞ্চালন করেন।
- পরবর্তীতে 'বাগবান' (২০০৩), 'ব্ল্যাক' (২০০৫), 'সরকার' (২০০৫), 'চিনি কম' (২০০৭), 'পা' (২০০৯) ও 'পিকু' (২০১৫)-এ অভিনয় করেন; 'ব্ল্যাক'-এ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
- তাঁর স্ত্রী জয়া বচ্চন প্রথম দিকে টেলিভিশনে কাজের সিদ্ধান্তে দ্বিধায় ছিলেন বলে পরে জানিয়েছেন।
তথ্য যাচাই
জন্ম তারিখ (১৯৪২, ১১ অক্টোবর), এলাহাবাদ/প্রয়াগরাজ, কুলি সিনেমার দুর্ঘটনার তারিখ (১৯৮২, ২৬ জুলাই), ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল, হেপাটাইটিস-বি (২০১৭ সালে জানান, ২০০০ সালে ধরা পড়ে), যকৃতের ৭৫ শতাংশ ক্ষতি, এবিসিএলের ৭০ কোটি রুপি লোকসান, এবং উল্লিখিত ছবির তারিখগুলো—সবই প্রবন্ধের ভেতরেই যাচাইকৃত।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
প্রতিবেদনে অমিতাভের জীবনের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই উপস্থাপন করা হয়েছে; বফর্স বিতর্কে অভিযোগ ও প্রমাণের বিষয়ে সাবধানে লেখা হয়েছে ('অভিযোগ আর প্রমাণ এক নয়')।