আহসান মঞ্জিলের সিন্দুক এখনো বন্ধ, কী আছে জানে না কেউ
- ঢাকার নবাব পরিবারের বাসভবন আহসান মঞ্জিল এখন জাদুঘর; ৯ নম্বর গ্যালারিতে পাঁচটি লোহার সিন্দুক রাখা আছে, যার মধ্যে দুটি খোলা হয়েছে এবং তিনটি এখনো বন্ধ।
- সিন্দুকগুলো নবাব পরিবারের কেন্দ্রীয় ভল্ট বা ব্যক্তিগত কোষাগার হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে লন্ডন থেকে আনা হয়েছিল।
- সিন্দুকগুলোর প্রস্তুতকারক যুক্তরাজ্যের চাব্স কোম্পানি; কলকাতার এজেন্ট দ্য থমসন অ্যান্ড কোং–এর মাধ্যমে সেগুলো আহসান মঞ্জিলে আনা হয়।
- সবচেয়ে বড় সিন্দুকটির উচ্চতা ২৫৪ সেন্টিমিটার, চওড়া ১৪৮ সেন্টিমিটার, এতে ৯৪টি লকার আছে; বাকি তিনটির আকার ছোট।
- ১৯৮৭ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে সিন্দুকগুলোর তালিকা তৈরি করে; বুয়েটের উপাচার্য সভাপতি ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ১৮ মে লোহার গরাদ কেটে সিন্দুকে প্রবেশ করা হয়; গ্যাস কাটার দিয়ে ৯৪টি লকারের একটি খুলে দেখা যায় ভেতরে কিছু নেই।
- পরে ৮৫ নম্বর লকার ড্রিল মেশিনে ফুটো করা হয়, এতে সিন্দুকের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়; পেছনের লকারগুলো খুলে দেখা যায় সবগুলো খালি।
- ক্ষতিগ্রস্ত সিন্দুকটি মেরামতের পর ১৯৮৭ সালের ২৮ নভেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় প্রতীকী মূল্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরকে দেয়; বড়টির দাম ২৭ হাজার টাকা, মাঝারিটির ১০ হাজার টাকা এবং বাকি তিনটির ৫০০ টাকা।
- ১৯৯১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঙা ভেঙে আরেকটি সিন্দুক খোলা হয়, সেখানেও কিছু পাওয়া যায়নি; বাকি তিনটি এখনো খোলা হয়নি।
- সিন্দুকের ভেতরে সোনা, হীরা বা মূল্যবান সম্পদ থাকতে পারে—এমন কৌতূহল বাড়তে থাকায় দর্শনার্থীরা আহসান মঞ্জিলে যেতে থাকেন।
- জাদুঘরের উপকিপার দিবাকর সিকদার বলেন, তালাবদ্ধ সিন্দুকগুলো দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করে কিন্তু এগুলো কখনো খোলা হয়নি।
- নবাব সলিমুল্লাহর মৃত্যুর পর খাজা হাবিবুল্লাহ ১৯১৫ সালের ১০ জুন গদিতে অভিষিক্ত হন; ১৯৫২ সালের ১৪ মে জমিদারি উচ্ছেদ আইনের আওতায় সরকার নবাব এস্টেট অধিগ্রহণ করে।
- সংস্কারের অভাবে একসময়কার জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে; ১৯৭৪ সালে নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তৎকালীন সরকার সংস্কারের মাধ্যমে জাদুঘরে রূপান্তরের নির্দেশ দেয়।
- সোনালী ব্যাংকের একটি ভল্টও কখনো খোলা হয়নি; ১৯০৮ সালে নবাব সলিমুল্লাহ দরিয়া-ই-নূর নামের হীরাসহ ১০৯টি রত্ন বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছিলেন ১৪ লাখ রুপি।
তথ্য যাচাই
আহসান মঞ্জিল ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এবং এটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের একটি শাখা — যাচাইকৃত। পাঁচটি সিন্দুকের বিবরণ, ১৯৮৭ সালের কমিটি গঠন, ১৯৯১ সালে তাঙা ভেঙে খোলা ঘটনা এবং দামের হিসাব — সবই প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লিখিত।
পক্ষপাত বিশ্লেষণ
প্রথম আলো প্রতিবেদনে কোনো স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব দেখা যায় না; উভয় পক্ষের (জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ও দর্শনার্থীদের) কথা সমানভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।